
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিষ্টিস ৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার শহীদ ডাক্তার শামসুল আলম খান বি এম এ ভবন এর সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আহবায়ক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম আহাবয়ক ফাতেমা খান মজলিস, মোহাম্মদ শফিকুর রহমান,ফয়সাল আজীম, আসিফ মাহমুদ, সোহেল আহম্মেদ প্রমুখ। প্রস্তাবিত ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইনের’ একটি ধারা বাতিল ও ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টস। এতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বেশ কয়েকটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ল্যাবরেটরি প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মূল প্রবন্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসের যুগ্ম আহবায়ক ফাতেমা খান মজলিস বলেন, দেশজুড়ে ৬৩৯টি সরকারি হাসপাতাল, ৫ হাজার ৫৭৭টি বেসরকারি হাসপাতাল, ১০ হাজার ৭২৭টি রোগনির্ণয় কেন্দ্র এবং ১৪০টি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। অথচ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কোনো সরকারি হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে একজনও প্রাণরসায়নবিদ নেই। প্রাণরসায়নবিদদের হয়ে রোগ নির্ণয়ের কাজ করেন টেকনিশিয়ানরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ২০ হাজার প্রাণরসায়নবিদ দরকার। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকগুলোয় রোগনির্ণয়ে কাজ করেন মাত্র ১ হাজার ৪০০ জন প্রাণরসায়নবিদ। ৯৩ শতাংশ প্রাণরসায়নবিদদের ঘাটতি নিয়ে চলছে দেশের হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয়কেন্দ্রগুলো।

দেশের হাসপাতাল ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রগুলোতে ৯৩ শতাংশ বায়োকেমিষ্টিসদের ঘাটতি রয়েছে।!
প্রস্তাবিত ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইনের’ ধারা ৯–এর ৪ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘সব ল্যাবরেটরি ও রেডিওলজি রিপোর্টে বিএমডিসি রেজিস্টার্ড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষর থাকতে হবে।’ মূল উপস্থাপকসহ প্রায় সব আলোচক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধারা বৈষম্যমূলক, অগ্রহণযোগ্য ও অযৌক্তিক।
অনলাইনে আলোচনায় যুক্ত হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা বলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিটিকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
৭ দফা দাবি ও প্রস্তাবনাঃ
১।স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন হতে বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক ৯ নং ধারার ৪ নং উপধারা বাদ দিতে হবে এবং নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা।
২। দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের স্বার্থে যুগোপযোগী স্বাস্থ্য নীতি প্রনয়নের মাধ্যমে বায়োকেমিস্টদের কর্ম পরিধি ও পেশাগত সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা।
৩। পর্যায়ক্রমে সকল ল্যাবরেটরিকে এক্রিডিটেশনের আওতায় আনা।
৪। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রাণরাসায়নবিদ ও ল্যাবরেটরি সায়েন্টিস্ট নিয়োগ প্রদান করা।
৫। বিশেষায়িত হাসপাতালসমুহ ও সকল জেলা সদর হাসপাতাল গুলোতে বায়োকেমিষ্ট/ল্যাবরেটরী সায়েন্টিস্ট পদ সৃষ্টি করা ।
৬। স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারনী যে কোন পর্যায়ে গঠিত কমিটিতে বিএসিবির নুন্যতম একজন প্রতিনিধি অন্তভূক্ত করা।
৭। অর্গানোগ্রামের মাধ্যমে পদোন্নতির পথ খোলা রাখা।
৭। সুনির্দিষ্ট অর্গানোগ্রাম এর মাধ্যমে বিভিন্ন পদের পদোন্নতির পথ খোলা রাখতে হবে ।
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে সবক্ষেত্রে একটা গুণগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অন্যান্য সেক্টরের মতো স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য একটি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশে রোগিদের যাওয়া কমে এসেছে। দেশে রোগ নির্ণয়ের উপর রোগিদের আস্থা যখন ফিরে আসছে তখন বায়োকেমিস্টদের বাদ দিয়ে আইন করে বিতর্কিত ধারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে সংযোজন করলে তা কখনো সুফল বয়ে আনবে না। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত।
